হালনাগাদ: 22 সেপ্টেম্বর 2026
পঞ্জিকায় রথযাত্রা এক দিনের, কিন্তু বাস্তবে তা চলে প্রায় ছয় সপ্তাহ। চক্র শুরু হয় জুনে প্রকাশ্য স্নানে, মাঝে এমন পনেরো দিন আসে যখন বিগ্রহদের দর্শনই হয় না, আর শেষ হয় তখনই যখন তাঁরা নিজেদের সিংহাসনে ফেরেন।
তিনটি রথ, প্রতি বছর নতুন
নন্দীঘোষ জগন্নাথের রথ, তালধ্বজ বলভদ্রের আর দর্পদলন সুভদ্রার। এগুলি রেখে দিয়ে আবার ব্যবহার করা হয় না: ছুতোরেরা প্রতি বছর অক্ষয় তৃতীয়ায় নতুন কাঠ দিয়ে কাজ শুরু করেন, আর উৎসবের পরে রথ খুলে ফেলা হয়, কাঠ যায় মন্দিরের রান্নাঘরে। তিনটি রথ উচ্চতায়, চাকার সংখ্যায় ও চাঁদোয়ার রঙে আলাদা, এবং প্রত্যেকের নিজস্ব সারথি ও রক্ষক দেবতা আছেন।
রথ টানাই এর মর্ম। দড়ি সকলের জন্য খোলা — টিকিট নেই, সংরক্ষিত ঘেরাও নেই — আর রথ চলার আগে পুরীর গজপতি রাজা সোনার ঝাঁটায় রথের মঞ্চ ঝাঁট দেন; এই রীতির নাম ছেরা পহঁরা, যা রাজাকে সেবকের স্থানে বসিয়ে দেয়।
যে পনেরো দিন কিছুই দেখার থাকে না
এই ব্যাপারটিই যাত্রীদের প্রায়ই অপ্রস্তুত করে। স্নানযাত্রার পর, যখন সকলের সামনে 108 ঘড়া জলে বিগ্রহদের স্নান হয়, মনে করা হয় তাঁরা অসুস্থ হয়ে নিভৃতে চলে যান। প্রায় পনেরো দিন — অনসর — মূল বিগ্রহের দর্শন একেবারেই হয় না। ভক্তেরা তখন প্রায় 23 কিমি দূরে ব্রহ্মগিরির আলারনাথে যান, এই বিশ্বাসে যে জগন্নাথ ওই দিনগুলি সেখানেই কাটান।
দর্শন আবার শুরু হয় নেত্রোৎসব দিয়ে, যখন নতুন আঁকা চোখ দেখানো হয়, আর তার পরের নবযৌবন দর্শন বছরের সবচেয়ে ভিড়ের দিনগুলির একটি। চক্রের সব তারিখ আমাদের পঞ্জিকায় আছে।
ক্রম অনুসারে পুরো ব্যবস্থা
| পর্ব | কখন | কী হয় |
|---|---|---|
| চন্দনযাত্রা | অক্ষয় তৃতীয়া থেকে, 21 দিন | নরেন্দ্র সরোবরে সাজানো নৌকায় প্রতিনিধি বিগ্রহদের বিহার; সেদিনই রথ নির্মাণ শুরু |
| স্নানযাত্রা | জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা | স্নান মণ্ডপে প্রকাশ্য স্নান, 108 ঘড়া জলে |
| অনসর | তার পরে প্রায় পনেরো দিন | নিভৃতবাস; মূল বিগ্রহের দর্শন হয় না |
| নেত্রোৎসব, নবযৌবন | যাত্রার আগের দিন | চোখের দর্শন; বিপুল ভিড়ে আবার দর্শন শুরু |
| রথযাত্রা | আষাঢ় শুক্লা দ্বিতীয়া | রথ বড়দাণ্ড ধরে গুণ্ডিচা পর্যন্ত টানা হয় |
| হেরা পঞ্চমী | পঞ্চম দিন | লক্ষ্মী জগন্নাথের খোঁজে গুণ্ডিচায় আসেন |
| সন্ধ্যা দর্শন | নবম দিন | গুণ্ডিচায় সান্ধ্য দর্শন |
| বাহুড়া যাত্রা | দশম দিন | ফেরার যাত্রা, উল্টো রথ |
| সুনা বেশ | একাদশ দিন | রথে স্বর্ণালঙ্কার, রাস্তা থেকে বিনামূল্যে দর্শন |
| অধর পণা | দ্বাদশ দিন | রথে মিষ্টি পানীয়ের বিশাল হাঁড়ি নিবেদন করে ভাঙা হয় |
| নীলাদ্রি বিজে | ত্রয়োদশ দিন | বিগ্রহরা রত্নবেদিতে ফেরেন, চক্র সম্পূর্ণ হয় |
যাত্রার দিনগুলির কাজের কথা
- সুনা বেশ আর রথ টানা — দুটোই বড়দাণ্ড থেকে খোলা জায়গায় দেখা যায়। এর জন্য মন্দিরে ঢুকতে হয় না, তাই প্রবেশের নিয়ম এখানে খাটে না; বছরে এই একবারই উৎসব সবার চোখে পড়ে।
- প্রধান দিন ও তার আশপাশে কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানের জন্য মন্দিরের ভিতরে দর্শন ছোট করে দেয় বা বন্ধ রাখে। বিজ্ঞপ্তি এক-দুই দিন আগে বেরোয়; চালু কোনও বিজ্ঞপ্তি থাকলে তা এই পাতার উপরেই দেখা যাবে।
- সংবাদপত্রে ভিড়ের যে সংখ্যা ছাপে তা গণনা নয়, গোল অনুমান। “দশ লক্ষ” জাতীয় সংখ্যাকে আনুমানিক মাত্রা ধরুন।
- ঘর মাসখানেক আগে বুক করুন। যাত্রার সপ্তাহে পুরী পুরোপুরি ভরে যায়।
নবকলেবর: এখনই নয়
মাঝে মাঝে কাঠের বিগ্রহ বদলানো হয়; এই অনুষ্ঠানের নাম নবকলেবর। এটি কেবল সেই বছরেই হয় যখন আষাঢ় মাস দুবার পড়ে, যা শেষবার হয়েছিল 2015 সালে। পরবর্তী এমন বছর 2034 — এটি ওড়িয়া সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত জ্যোতির্গণনা, মন্দিরের ঘোষিত তারিখ নয়। 2026 বা 2027 সালে নবকলেবর নিয়ে যা পড়বেন তা ভুল: 2026 সালে দুবার পড়া মাসটি জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় নয়।
